নিশ্চিত হলো শতাধিক শিক্ষার্থীর পড়াশোনা, বসুন্ধরা গ্রুপের শিক্ষাবৃত্তি

নিজস্ব প্রতিবেদন: শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতি ও নুসরাত। শৈশব থেকেই জীবনের কঠিন বাস্তবতার সম্মুখীন হয়েছে দুজন। অভাবের তাড়নায় অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কাটাতে হয়েছে তাদের। দুজন দুই বিদ্যালয়ে পড়লেও তাদের মাঝে একটি মিল রয়েছে।

একজন পড়ছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার উজানচর কেএন উচ্চ বিদ্যালয়ে, আরেকজন আশরাফবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ে। বাড়ি থেকে তাদের স্কুলের দূরত্ব প্রায় দেড় কিলোমিটার। প্রতিদিন হেঁটে স্কুলে যাতায়াত করতে হয়। কখনো আবার না খেয়েও স্কুলে যেতে হতো।

আরেক মেধাবী রুপসদি বৃন্দাবন উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী সুমাইয়া। ছয় মাস আগে সে বাবাকে হারায়। এরপর সুমাইয়াকে নিয়ে তার মা তাছলিমা আক্তার আশ্রয় নেন ভাইয়ের বাড়িতে। মেয়েকে পড়ালেখা করাতে চান তাছলিমা। কিন্তু তাঁর ভাইদের ইচ্ছা লেখাপড়ায় বাড়তি খরচ না করে বিয়ে দিয়ে দিতে। সুমাইয়ার একটাই কথা, ‘পড়াশোনা করবই। ’শত প্রতিকূলতার মধ্যেও তারা থেমে যায়নি, পড়ালেখা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু মাঝেমধ্যেই অজানা আশঙ্কা গ্রাস করত, শেষ পর্যন্ত পড়াশোনা করতে পারবে তো? শুধু জান্নাতি, নুসরাত ও সুমাইয়া নয়, পুরো বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ১৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শতাধিক শিক্ষার্থীর এই আশঙ্কা দূর করেছে দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বসুন্ধরা গ্রুপ। অদম্য মেধাবী শিক্ষার্থীদের দেওয়া হয়েছে শিক্ষাবৃত্তি। নিশ্চিত করা হয়েছে, যত দিন তারা পড়তে চায় তাদের পাশে থাকবে বসুন্ধরা গ্রুপ।

ময়নাল হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান স্যারের মহানুভবতায় এই বাঞ্ছারামপুরের মানুষ আজ অনেক সুবিধা পাচ্ছে। সুদ ও সার্ভিস চার্জ মুক্ত ক্ষুদ্রঋণ, মাদরাসা, এতিমখানায় মাসিক অনুদান, আজকের এই শতাধিক শিক্ষার্থীকে শিক্ষাবৃত্তি প্রদান এর অনন্য উদাহরণ। আপনারা বসুন্ধরা গ্রুপের সবার জন্য দোয়া করবেন। আরো বেশি করে যেন বসুন্ধরা গ্রুপ মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারে। ‘ 

বৃত্তির টাকা হাতে পেয়ে সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী রূপকথা জানায়, বাবার উপার্জনে সংসারই ঠিকমতো চলে না, আমাকে পড়াশোনা করাবেন কিভাবে। তিন মাস আগেই একবার পড়াশোনা বন্ধ করে দিতে চেয়েছিলেন। তখনই আমার পাশে দাঁড়ায় বসুন্ধরা গ্রুপ ও শুভসংঘ। গত তিন মাস ধরে আমি শুভসংঘের মাধ্যমে প্রতি মাসে দুই হাজার টাকা করে পাই। এখন আর আমাকে পড়াশোনা নিয়ে দুশ্চিন্তা করতে হয় না। আমি মন দিয়ে পড়ছি। বড় হয়ে আমিও দেশের সেবা করতে চাই। আমার মতো দরিদ্র শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতে চাই। ‘

উল্লেখ্য, গত তিন মাস ধরে এই উপজেলার পঞ্চাশজন শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দেওয়া হচ্ছে। এই মাস থেকে নতুন করে যুক্ত হলো আরো পঞ্চাশজন। বৃত্তি প্রদান শেষে উপস্থিত সবাইকে বই উপহার দেওয়া হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *