২০১২ সাল থেকে শুরু। এখন পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়েছে বিপিএলের অষ্টম আসর। কিন্তু এতদিনেও বিপিএল শক্ত জায়গায় যেতে পারেনি। শুক্রবার থেকে মাঠে গড়াবে টুর্নামেন্টের নবম আসর। তার আগে বিপিএলের ছন্নছাড়া অবস্থা নিয়ে মুখ খুললেন সাকিব আল হাসান। যিনি এবার ফরচুন বরিশালের অধিনায়ক।

বুধবার এক দিনের জন্য গালফ অয়েলের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির সিইও (প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা) হয়ে অফিসে বসেছিলেন সাকিব আল হাসান। সেখানে উঠে আসে বিপিএল প্রসঙ্গও।
সাকিবের কাছে সাংবাদিকদের প্রশ্ন ছিল ৬ জানুয়ারি শুরু বিপিএল আয়োজনে যদি সিইও হতেন তাহলে কী ভূমিকা রাখতেন? এমন প্রশ্নের জবাবে সাকিব বলেন, আমাকে যদি বিপিএলের সিইওর দায়িত্ব দেয়া হয়, আমার বেশিদিন লাগবে না। আমার ধারণা, ১ থেকে ২ মাস লাগবে সবকিছু ঠিক করতে।
সাকিব আরও বলেন, ১৬ থেকে ২০ কোটি মানুষের দেশে একটি পছন্দের খেলার বাজার থাকবে না এটাতো বিশ্বাস করা কঠিন। এটা খুবই দুঃখজনক। আমি অন্তত এটা বিশ্বাস করি না। আমার ধারণা, এটা মার্কেটংয়ের জায়গা থেকে অবশ্যই বড় একটা ব্যর্থতা। যে কারণেই আমরা আসলে একটা বাজার তৈরি করতে পারিনি।
এই দায়িত্ব পালনকালে সাকিব আল হাসানকে প্রশ্ন করা হয় বিপিএলের প্রধান নির্বাহীর দায়িত্ব পেলে কী করবেন?
জবাবে সাকিব আল হাসান খুলে দেন তার স্বপ্নের দ্বার। নিজের লক্ষ্যের কথা বলতে গিয়ে সাকিব বলেন, ‘আমাকে যদি প্রধান নির্বাহীর দায়িত্ব দেয়া হয়, বিপিএলে পরিবর্তন আনতে আমার বেশিদিন লাগবে না। আমার ধারণা এক থেকে দুই মাস লাগবে সর্বোচ্চ সবকিছু ঠিক করতে। দুই মাসও লাগার কথা না, দুই মাস অনেক দূরের কথা বলছি। ‘নায়ক’ সিনেমা দেখেছেন না? একদিনেও অনেক কিছু করা সম্ভব। যে করতে পারে, সে সব করতে পারে।’
দায়িত্ব পেলে কী কী কাজ করতেন সাকিব আল হাসান তারও একটা উদাহরণ দেখিয়েছেন। বলেন, ‘এই সবকিছু বাদ দিয়ে আবার ড্রাফট হবে, অকশন হবে, ফ্রি টাইমে বিপিএল হবে, সব আধুনিক টেকনলজি থাকবে। ডিআরএস থাকবে, ব্রডকাস্ট ভালো থাকবে। হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে ভেন্যু থাকবে।
বিপিএলে এবার শুরু থেকে ডিআরএস থাকছে না। প্লে-অফ পর্ব থেকে ডিআরএস যোগ হওয়ার কথা। এসবের পেছনে সদিচ্ছার অভাব দেখছেন সাকিব, ‘বাজেট-সংকট বোধ হয় বিসিবির! সদিচ্ছা থাকলে আমি তো কোনো কিছু থেমে থাকার কারণ দেখি না। ৩ মাস আগে ড্রাফট হবে না, অকশন হবে না, ডিআরএস থাকবে না, ২ মাস আগে থেকে দল গঠন থাকবে না—আমি এসবের কোনো কারণ দেখি না। এক খেলোয়াড় এক দিন আসবে, দুই দিন পর চলে যাবে। কে কখন আসবে যাবে কেউ জানে না।’
বিপিএলে পারফর্ম করা খেলোয়াড়দের বাইরে সেভাবে মূল্যায়ন করা হয় না—এর পেছনে লিগটি সেভাবে না দেখে এবং মনোযোগ কাড়তে না পারার ব্যর্থতাকে বড় করে দেখছেন সাকিব, ‘আইপিএলকে হিসাবের বাইরে রাখলাম। বিগ ব্যাশ, পিএসএল বা সিপিএলে যখন কেউ ভালো করে জাতীয় দলে সুযোগ দিয়ে দেয়। বিপিএল তো বাইরের দেশের কেউ ও রকম দেখে না যে একটা প্যারামিটার (মানদণ্ড) ঠিক করবে; বিপিএলের খেলা এ রকম, প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ টুর্নামেন্ট, এখানে যারা ভালো খেলছে তাদের যোগ্যতা আছে। এমন কেউ চিন্তাই করতে পারেনি এখন পর্যন্ত। এখনো এ পর্যায়ে রয়ে যাওয়াটা খুবই হতাশাজনক।’
নিজস্ব প্রতিবেদন: শেয়ারবিডি নিউজ 04/01/2023