ডেঙ্গুতে আরও আটজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে ২১৩ জনের মৃত্যু হলো। এর আগে কোনো বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা ২০০ ছাড়ায়নি। এর আগে এক দিনে এ বছরের সর্বোচ্চ মৃত্যু হয় ৩ নভেম্বর। ওই দিন ৯ জন ডেঙ্গুতে প্রাণ হারান।
আজ মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম এ তথ্য জানিয়েছে। গতকাল সোমবার সকাল ৮টা থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত সারা দেশে ৬৯২ জন নতুন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪৯ হাজার ৯৯২ জন ডেঙ্গু রোগী। এর মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা ৩২ হাজার ৫৩৫, আর ঢাকার বাইরে ১৭ হাজার ৪৫৭।
গতকাল ডেঙ্গুতে তিনজনের মৃত্যুর খবর দিয়েছিল কন্ট্রোল রুম। এ বছর ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের বড় অংশই শিশু।
২০০০ সালে দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা দিয়েছিল। ওই বছর ডেঙ্গুতে মারা গিয়েছিলেন ৯৩ জন। এরপর ডেঙ্গুর সবচেয়ে বড় প্রকোপ দেখা দেয় ২০১৯ সালে। ওই বছর মারা যান ১৭৯ জন। করোনা মহামারি শুরুর বছর; অর্থাৎ, ২০২০ সালে মারা যান ৭ জন, পরের বছর মারা যান ১০৫ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে— চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪৯ হাজার ৯৯২ জন। এর মধ্যে ঢাকায় ৩২ হাজার ৫৩৫ জন এবং ঢাকার বাইরে রয়েছেন ১৭ হাজার ৪৫৭ জন। এছাড়া সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন ৪৩ হাজার ৩০৭ জন। তাদের মধ্যে ঢাকা থেকে ২৮ হাজার ৭৪৩ জন, ঢাকার বাইরে থেকে ১৪ হাজার ৫৬৪ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন।
চলতি বছরের ২১ জুন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশে প্রথম মৃত্যুর খবর জানায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ২০২০ সালে করোনাভাইরাস মহামারিকালে ডেঙ্গুর সংক্রমণ তেমন একটা দেখা যায়নি। তবে, ২০২১ সালে সারাদেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন ২৮ হাজার ৪২৯ জন। তার মধ্যে ১০৫ জনের মৃত্যু হয়।